শান্তিনিকেতনের সোনাঝুড়ি হাটে বনদপ্তরের অভিযানে উত্তেজনা

শান্তিনিকেতনের সোনাঝুড়ি হাটে বনদপ্তরের অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার বনদপ্তরের কর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে হাটের ব্যবসায়ীদের বি
শান্তিনিকেতনের সোনাঝুড়ি হাটে বনদপ্তরের অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার বনদপ্তরের কর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে হাটের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে তারা গাছের নীচে ইট-পাথর দিয়ে চাতাল বানিয়ে ব্যবসার জায়গা দখল করছেন। এই ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
বোলপুরের বনদপ্তরের আধিকারিক জ্যোতিষ বর্মন জানান, বনদপ্তরের জমিতে গাছের নীচে ইট দিয়ে চাতাল বানানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধু ইটের চাতাল নয়, সোনাঝুড়ি হাটকে ঘিরে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের তালিকাও দীর্ঘ। গাছের ক্ষতি, জঙ্গলের মধ্যে অবাধে চারচাকা গাড়ি ঢোকানো, প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলার মতো একাধিক অভিযোগ নিয়ে পরিবেশ আদালতে মামলা চলছে।
পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের দাবি, বনদপ্তরের জমিতে বন সুরক্ষা আইনকে উপেক্ষা করেই দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলছে। অন্যদিকে, হাট কমিটির দাবি, কয়েকজন ব্যবসায়ী শুধুমাত্র দোকানের জায়গা চিহ্নিত করার জন্য ইট পাথর রেখেছিলেন এবং বনদপ্তরের আপত্তির পর তা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। হস্তশিল্পীদের হাট কমিটির সদস্যরা জঙ্গলের ক্ষতি কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেয় না।
প্রসঙ্গত, প্রায় ২০০০ সালে স্থানীয় কয়েকজন আদিবাসী শিল্পীর হাতে সপ্তাহে একদিনের ছোট্ট হাট হিসেবে শুরু হয়েছিল সোনাঝুড়ি হাট। ২০১৬-১৭ সালের পর থেকেই এর ব্যাপক বিস্তার ঘটে এবং এখন সারা বছর পর্যটকের ভিড়ে জমজমাট থাকে। কিন্তু সেই জনপ্রিয় হাটই এখন পরিবেশের কাছে প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বোলপুর বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক অরুণ দাসের অভিযোগ, অনেক ব্যবসায়ী গাছের নীচে ইট-পাথর দিয়ে জায়গা চিহ্নিত করেছেন।














