ভারত-মায়ানমার সীমান্তে জমি বিনিময়ের প্রস্তাব, মণিপুরে উদ্বেগ
ভারত এবার মায়ানমারের সঙ্গে ছিটমহলের কায়দায় জমি বিনিময়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। কেন্দ্র সরকার মণিপুরের চান্দেল জেলার সীমান্তবর্তী প্রায় ১.৪ বর্গমাইল এলাকা নি
ভারত এবার মায়ানমারের সঙ্গে ছিটমহলের কায়দায় জমি বিনিময়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। কেন্দ্র সরকার মণিপুরের চান্দেল জেলার সীমান্তবর্তী প্রায় ১.৪ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে, তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এই এলাকা ভারত-মায়ানমার সীমান্তের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অংশ। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে জানান, সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় এখনও সুরাহা হয়নি এবং সেগুলোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। গত মাসে মার্কিন ম্যাগাজিন দ্য ডিপ্লোম্যাট জানিয়েছিল, ভারত সরকার মায়ানমারের সঙ্গে মণিপুর সীমান্তে ৬৫ ও ৬৮ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী সীমানা নির্ধারণের জন্য জমি বিনিময়ের প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে। ৬৫ ও ৬৮ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী দূরত্ব প্রায় ২.৮ কিলোমিটার। সীমানা নির্ধারণের কাজটি আগস্ট নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারত-মায়ানমারের মধ্যে ১৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে, যা অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও মিজোরাম হয়ে মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চল ও চিন রাজ্যে প্রবেশ করেছে। এই সীমান্তের বড় একটি অংশই পাহাড়ি এবং জঙ্গলঘেরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের প্রায় ১,৪৭২ কিলোমিটার এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে প্রায় ১৭১ কিলোমিটার এলাকা এখনও অমীমাংসিত, যার মধ্যে প্রধানত অরুণাচল প্রদেশের লোহিত সেক্টর এবং মণিপুরের কাবাউ উপত্যকা অন্তর্ভুক্ত। ২০২৪ সালে ভারত এই ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমানায় বেড়া দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ২০১৮ সাল থেকে চালু থাকা ভারত-মায়ানমার সীমান্ত অবাধ চলাচল ব্যবস্থা বাতিল করারও সিদ্ধান্ত নেয়। এই ব্যবস্থার আওতায় দুদেশের সীমানা-সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী উপজাতীরা ভিসা ছাড়াই বর্ডার পাস ব্যবহার করে একে অপরের ভূখণ্ডে ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারতেন। তবে জমি বিনিময়ের প্রস্তাবটি নিয়ে মণিপুরে বিরোধিতা দেখা গিয়েছে। কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টিগ্রিটি সরকারকে সতর্ক করেছে যেন রাজ্যের ভূখণ্ডের সামান্য অংশও মায়ানমারকে হস্তান্তর করা না হয়। তারা আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং স্পষ্ট জানিয়েছে, মণিপুরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা অপরিবর্তনীয়। সংগঠনটির বক্তব্য, ১৯৪৯ সালে ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির পর থেকেই মণিপুর তার ঐতিহাসিক ভূখণ্ডের কিছু অংশ হারিয়েছে, তাই রাজ্যের ভৌগোলিক সীমানা ফের কমানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


















