সুপ্রিম কোর্টের বার্তা: তরুণদের সঙ্গে সংলাপ জরুরি, বলপ্রয়োগ নয়

সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, তরুণদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত, বলপ্রয়োগ নয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য ক
সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, তরুণদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত, বলপ্রয়োগ নয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন CJP-র ২০ জুলাইয়ের সংসদ চলো বিক্ষোভে হিংসার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে। বেঞ্চ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংযম প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি এবং তরুণদের বোঝানোর জন্য সংলাপই প্রথম পথ হওয়া উচিত।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা আধিকারিক মণীশকুমার সোলাঙ্কির দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়। আবেদনে ২০ জুলাইয়ের সংসদ চলো কর্মসূচিতে হিংসা উস্কে দেওয়ার অভিযোগে CJP-র সংগঠকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়। আদালত মামলাটিকে ইতিমধ্যেই বিচারাধীন ছাত্র বিক্ষোভ ও পুলিশি পদক্ষেপ সংক্রান্ত মামলাগুলির সঙ্গে একত্রে শুনানির নির্দেশ দেয়।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হলো তরুণদের কথা শোনা এবং তাঁদের কাউন্সেলিং করা। রাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের নামে অতিরিক্ত আগ্রাসী পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাঁর কথায়, একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলকে উৎসাহিত করা গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো ঘটনা ঘটে, পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশকেও যথেষ্ট সংযম প্রদর্শন করতে হবে।
আবেদনকারীর আইনজীবী রিজওয়ান আহমেদ আদালতে দাবি করেন, বিক্ষোভের ১৫ দিনেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংগঠকদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, CJP-র নেতারা এখনও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে উত্তেজনা বাড়াচ্ছেন। তিনি আদালতের কাছে সংগঠকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আবেদন জানান।
এই বিষয়ে আদালত সংলাপ ও সংযমের উপর জোর দিয়েছে, একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, কিন্তু যদি কোনও ব্যক্তি অপরাধমূলক কাজ বা হিংসায় জড়িয়ে পড়েন, তবে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত আগের শুনানিতেও বলেছিল, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগকারী পুলিশ আধিকারিকদের যেমন রক্ষা করা যাবে না, তেমনই অপরাধে জড়িত বিক্ষোভকারীদেরও ছাড় দেওয়া যাবে না।
এই মামলার আগে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে জানিয়েছিল, শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর নিয়ে সরকার যে আশ্বাস দিয়েছিল, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছিল, প্রকৃত ছাত্র বিক্ষোভকারী এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি।
বুধবারের শুনানির শেষে সুপ্রিম কোর্ট নতুন আবেদনটিকে আগেই বিচারাধীন মামলাগুলির সঙ্গে যুক্ত করার নির্দেশ দেয়। ফলে ছাত্র বিক্ষোভ, পুলিশি পদক্ষেপ, বলপ্রয়োগের অভিযোগ এবং সংগঠকদের ভূমিকাসব বিষয়ই একসঙ্গে বিবেচনা করবে শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করেছে যে, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ মোকাবিলায় সংলাপ, সংযম ও আইনের শাসনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।


















