পাক সেনার নজরদারির ভয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ত্যাগ, উইচ্যাটে ভরসা রাখার নির্দেশ

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তাদের জওয়ানদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে যে, হোয়াটসঅ্যাপে নজরদারির আশঙ্কা রয়েছে এব
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তাদের জওয়ানদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে যে, হোয়াটসঅ্যাপে নজরদারির আশঙ্কা রয়েছে এবং তথ্য ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে, জওয়ানদের চিনা মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম উইচ্যাট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন উইচ্যাট? উইচ্যাট হল একটি বৃহত্তম সুপার অ্যাপ, যেখানে টেক্সট চ্যাট, ভয়েস ও ভিডিও কল, ফাইল শেয়ারিং এবং ডিজিটাল লেনদেনের মতো নানা সুবিধা রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত সরকার ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে, যার মধ্যে উইচ্যাটও ছিল। এই অ্যাপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে পাকিস্তান এই বিতর্কিত অ্যাপকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অংশীদারি ক্রমশ গভীর হচ্ছে। একসময় সামরিক সরঞ্জামের আদানপ্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন সাইবার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশ একসাথে কাজ করছে। একই যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করার ফলে সীমান্ত বিষয়ক আলোচনা, যৌথ সামরিক মহড়া এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার সময় উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সহজ হচ্ছে।
তবে, চিন পাকিস্তানকে সব আবহাওয়ার বন্ধু বলে দাবি করলেও, গত মাসে আমেরিকার সাইবার তদন্তকারী সংস্থা সেন্টিনেল ল্যাবস জানিয়েছে যে, চিনা দুষ্কৃতীরা বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং ইসলামাবাদের পুলিশ বাহিনীর ডিজিটাল পরিকাঠানোতে নজরদারি চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, চিনা অ্যাপকে এতটা ভরসা করলে পাক সেনাকে খেসারত দিতে হবে না তো? এই প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে।


















