বীরভূমের টুলু মণ্ডলের ২০০ কোটির সম্পত্তি নিয়ে ইডির তদন্ত

বীরভূমের বিশিষ্ট বালি-পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক টুল
বীরভূমের বিশিষ্ট বালি-পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক টুলুর বিরুদ্ধে বেআইনি অর্থের উৎস খুঁজে বের করার জন্য ইডি ইতিমধ্যে বীরভূম জেলা পুলিশের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করেছে। ইডি সূত্রে জানা গেছে, টুলুর আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি এবং সংস্থার কাজকর্ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডলের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। টুলুর স্ত্রী এবং মেয়ের নামেও প্রচুর সম্পত্তি এবং সংস্থা রয়েছে। টুলু মণ্ডল প্রথম জীবনে গৃহশিক্ষক এবং দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। পরে খাদানের ব্যবসায় বিনিয়োগ করে তিনি বালি-পাথর খাদানের সাম্রাজ্যের মালিক হয়ে ওঠেন। একের পর এক সম্পত্তি, বিলাসবহুল গাড়ি, জমি-বাড়ি, নগদ টাকা এবং সোনার পরিমাণ দেখে পুলিশও বিস্মিত।
বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ জানিয়েছেন, টুলুর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা থাকা নগদ, ফিক্সড ডিপোজিট এবং মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনার হিসাব রয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৪০০ বিঘা জমি, বাড়ি এবং অন্যান্য নির্মাণেরও হদিশ মিলেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, টুলু মণ্ডল গত অর্থবর্ষে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা আয়কর দিয়েছেন। মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সোনা দুবাই ও সুইজারল্যান্ড থেকে এসেছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। ফলে উদ্ধার হওয়া বিপুল সম্পদের কতটা বৈধ, কতটা অবৈধ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদেশ থেকে আসা সোনা বৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে কি না, আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে কি না, হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে কি না, সেইসব বিষয় এখন ইডির তদন্তের আওতায় আসতে চলেছে।






